প্রিডেটরি জার্নাল কিভাবে চেনা যায়

A. H. M. GOLAM KIBRIA18 Jun 2026

Share:

Keywords:জার্নালপ্রিডেটরি জার্নালপাবলিকেশন
প্রিডেটরি জার্নাল কিভাবে চেনা যায়
প্রিডেটরি (Predatory) জার্নাল চেনাটা বর্তমানে গবেষকদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এরা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যে প্রথম নজরে আসল জার্নাল বলেই মনে হয়। তবে একটু সতর্ক হয়ে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় লক্ষ্য করলেই এদের ফাঁদ সহজে ধরা যায়।
প্রিডেটরি জার্নাল চেনার প্রধান উপায়গুলো হলো:

১. "জেট গতিতে" পিয়ার-রিভিউ এবং এক্সেপ্টেন্স
একটি মানসম্মত একাডেমিক জার্নালে পিয়ার-রিভিউ (Peer-review) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু প্রিডেটরি জার্নালগুলোর মূল লক্ষ্যই থাকে টাকা আয় করা। তাই তারা:
  • ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পেপার এক্সেপ্ট (Accept) করার গ্যারান্টি দেয়।
  • কোনো প্রকার বড় সংশোধন (Major Revision) ছাড়াই পেপার হুবহু ছেপে দেয়।

মনে রাখবেন:
কোনো জার্নাল যদি রিভিউ ছাড়াই বা নামমাত্র রিভিউতে দ্রুত পাবলিশের লোভ দেখায়, তবে সেটি ৯৯% নিশ্চিতভাবেই প্রিডেটরি।

২. স্প্যাম ইমেইলের মাধ্যমে পেপার আহ্বান (Unsolicited Emails)
ভালো মানের জার্নালগুলো সাধারণত ইমেইল পাঠিয়ে ঢালাওভাবে সবার কাছে পেপার খোঁজে না। প্রিডেটরি জার্নালগুলো আপনার ইমেইলে কিছু দিন পরপর ম্যানুস্ক্রীপ্ট পাঠাতে আমন্ত্রণ জানাবে। এই ইমেইলগুলোর কিছু চেনার উপায়:
  • খুব অতিরিক্ত তোষামোদপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করবে (যেমন: "Respected Professor", "Your esteemed research").
  • আপনার পূর্বের কোনো পাবলিকেশনের রেফারেন্স দিয়ে বলবে যে তারা আপনার লেখার ভক্ত এবং তাদের পরবর্তী ইস্যুতে আপনাকে লেখার অনুরোধ জানাচ্ছে (এমনকি আপনার বিষয়ের সাথে তাদের জার্নালের মিল না থাকলেও)।
  • ইমেইলগুলো প্রায়ই জিমেইল, ইয়াহু বা আউটলুক (যেমন: journaleditor@gmail.com) থেকে আসে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডোমেইন থেকে নয়।

৩. ডোমেইন নাম এবং ওয়েবসাইটের নিম্নমান
  • প্রিডেটরি জার্নালগুলোর ওয়েবসাইটগুলো অনেক সময় খুব সস্তা বা নিম্নমানের ডিজাইনের হয়।
  • বানান ও ব্যাকরণ ভুল: এদের হোমপেজে বা ইমেইলে প্রচুর ইংরেজি বানান ও ব্যাকরণগত ভুল থাকে।
  • ক্লোন ওয়েবসাইট (Hijacked Journals): অনেক সময় তারা বিখ্যাত কোনো জার্নালের হুবহু নকল বা কাছাকাছি নামের ডোমেইন কিনে ওয়েবসাইট বানায় (যেমন: মূল জার্নাল [www.nature.com](https://www.nature.com) হলে তারা হয়তো করবে [www.nature-research-journal.com](https://www.nature-research-journal.com))।

৪. অতিমাত্রায় বিস্তৃত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ 'Scope'
একটি জেনুইন জার্নালের কাজের ক্ষেত্র (Aims & Scope) সুনির্দিষ্ট থাকে। কিন্তু প্রিডেটরি জার্নালগুলো একই ছাতার নিচে সব বিষয় নিয়ে কাজ করতে চায়, যাতে বেশি পেপার (এবং টাকা) পাওয়া যায়। যেমন— জার্নালের নাম হয়তো "Journal of Medical Science", কিন্তু সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং, ইকোনমিক্স বা সমাজবিজ্ঞানের পেপারও অহরহ পাবলিশ হচ্ছে।

৫. ভুয়া এডিটোরিয়াল বোর্ড (Editorial Board)
তারা তাদের ওয়েবসাইটে বিশ্বের নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনালদের নাম ও ছবি এডিটর হিসেবে ঝুলিয়ে রাখে। অথচ সেই গবেষকরা হয়তো জানেনই না যে তাদের নাম সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে।
যাচাইয়ের উপায়: বোর্ডের ২/৩ জন এডিটরের প্রাতিষ্ঠানিক প্রোফাইল (যেমন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা রিসার্চগেট) চেক করে দেখুন তারা সত্যিই ওই জার্নালের সাথে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন কি না।

৬. ভুয়া ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর (Fake Impact Factor)
প্রিডেটরি জার্নালগুলো নিজেদের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর আছে বলে দাবি করে। তবে তারা আসল Clarivate Journal Citation Reports (JCR)-এর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ব্যবহার না করে কিছু ভুয়া ও টাকা দিয়ে কেনা ইনডেক্সিং এজেন্সির নাম দেয়। যেমন:
Global Impact Factor (GIF)
Universal Impact Factor (UIF)
Scientific Journal Impact Factor (SJIF)
International Innovative Journal Impact Factor (IIJIF)

সতর্কতা:
আসল এবং একমাত্র গ্রহণযোগ্য ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর দেয় Clarivate (Web of Science)। এর বাইরে বাকি 'Alternative' ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরগুলো ভুয়া জার্নালের লক্ষণ।

৭. পাবলিকেশন ফি-র অস্বচ্ছতা
ইন্ডেক্সড ওপেন অ্যাক্সেস জার্নালগুলো তাদের Article Processing Charge (APC) বা ফি কত, তা ওয়েবসাইটের শুরুতেই স্পষ্ট করে লিখে রাখে। অন্যদিকে, প্রিডেটরি জার্নালগুলো পাবলিকেশন ফি-র বিষয়টি লুকিয়ে রাখে। পেপার এক্সেপ্ট হওয়ার পর তারা হঠাৎ বড় অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেয় এবং টাকা না দিলে পেপার উইথড্র (Withdraw) করতে দেয় না।


সরাসরি যাচাই করার কিছু অনলাইন টুলস ও লিস্ট:
১. Beall's List (bellowslist.net): ডেভিস বিল নামক একজন লাইব্রেরিয়ান প্রিডেটরি পাবলিশার্স এবং জার্নালের একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। যদিও এটি এখন অফিশিয়ালি আপডেট হয় না, তবে এর আর্কাইভ এবং সাকসেসর সাইটগুলো এখনো প্রিডেটরি জার্নাল চেনার সবচেয়ে বড় ডেটাবেজ। 
২. DOAJ (Directory of Open Access Journals): কোনো ওপেন অ্যাক্সেস জার্নালে সাবমিট করার আগে সেটি doaj.org-এ সার্চ করে দেখুন। DOAJ খুব কঠোরভাবে যাচাই করে শুধু আসল ওপেন অ্যাক্সেস জার্নালগুলোকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। 
৩. COPE (Committee on Publication Ethics): আসল জার্নালগুলো সাধারণত COPE-এর সদস্য হয়। তাদের ওয়েবসাইটে COPE-এর লোগো বা মেম্বারশিপ আইডি চেক করতে পারেন।