কেন ক্রস-সেকশনাল স্টাডি থেকে সরাসরি 'রিস্ক ফ্যাক্টর' নির্ধারণ করা যায় না?

আসুন একটু সহজ করে বোঝার চেষ্টা করি কেন ক্রস-সেকশনাল স্টাডি থেকে সরাসরি "রিস্ক ফ্যাক্টর" দাবি করা যায় না এবং কেন আমাদের কেস-কন্ট্রোল বা কোহোর্ট স্টাডি করতে হয়।
খ) কেস-কন্ট্রোল স্টাডি (Case-Control Study) — অতীতের দিকে ফিরে যাওয়া
তাই সংক্ষেপে বলতে গেলে, ক্রস-সেকশনাল স্টাডিতে পাওয়া অডস রেশিও কেবল আপনাকে একটা ক্লু বা সূত্র দেয় যে, "এই দুটোর মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকতে পারে"। কিন্তু সেই সম্পর্কটা আসলেই একটা রিস্ক ফ্যাক্টর কি না, তা প্রমাণ করার জন্য আপনাকে কেস-কন্ট্রোল বা কোহোর্ট স্টাডির সাহায্য নিতেই হবে।
১. ক্রস-সেকশনাল স্টাডির সীমাবদ্ধতা: "টাইম মেশিন’ না থাকা
ক্রস-সেকশনাল স্টাডিকে বলা হয় একটি "স্ন্যাপশট’ (Snapshot) বা ক্যামেরার ক্লিকের মতো। আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে একদল মানুষের কাছে গেলেন এবং জানতে চাইলেন—তারা কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাসের সাথে যুক্ত কি না (Exposure) এবং তাদের কোনো রোগ আছে কি না (Outcome)।
এখানে আপনি একই সাথে এক্সপোজার এবং আউটকাম দুটোই পরিমাপ করছেন। ফলে একটি বড় সমস্যা তৈরি হয় যাকে বলা হয় Temporal Ambiguity (কোনটি আগে ঘটেছে তা বুঝতে না পারা)।
একটি উদাহরণ নেওয়া যাক:
মনে করুন, আপনি একটি ক্রস-সেকশনাল স্টাডি করলেন এবং দেখলেন যারা প্রতিদিন অতিরিক্ত কফি খায়, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা (Depression) বেশি। আপনি অডস রেশিও (Odds Ratio) বের করে দেখলেন এটি খুব বেশি।
কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন যে কফি খাওয়ার কারণে বিষণ্ণতা হয়েছে? নাকি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছিল বলেই ক্লান্তি দূর করতে বেশি বেশি কফি খাওয়া শুরু করেছে?
যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে এক্সপোজারটি (কফি) আউটকামের (বিষণ্ণতা) আগে ঘটেছে কি না, তাই কফিকে এখানে "রিস্ক ফ্যাক্টর’ (Risk Factor) বলা যাবে না। এটাকে বড়জোর একটি "অ্যাসোসিয়েশন’ (Association) বলা যায়।
২. কেস-কন্ট্রোল এবং কোহোর্ট স্টাডি কেন করতে বলা হয়?
একটি বিষয়কে নিশ্চিতভাবে "রিস্ক ফ্যাক্টর’ বলতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে, কারণটি অবশ্যই ফলাফলের আগে ঘটেছে। এই কাজটিই করে কেস-কন্ট্রোল এবং কোহোর্ট স্টাডি।
ক) কোহোর্ট স্টাডি (Cohort Study) — ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া
এটি রিস্ক ফ্যাক্টর বা কার্যকারণ (Causality) খোঁজার জন্য সবচেয়ে সেরা অবজারভেশনাল স্টাডি।
• এখানে আপনি সুস্থ একদল মানুষ নেন যাদের রোগটি নেই (মনে করি, রোগটি ফুসফুসের ক্যান্সার)।
• তারপর তাদের দুটি গ্রুপে ভাগ করেন: যারা এক্সপোজড (যেমন: ধূমপায়ী) এবং যারা নন-এক্সপোজড (অধূমপায়ী)।
• এরপর তাদের বছরের পর বছর পর্যবেক্ষণ করেন (Follow-up) দেখার জন্য কার রোগ (ফুসফুসের ক্যান্সার) হচ্ছে।
কেন এটি নির্ভরযোগ্য
কারণ এখানে আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে ধূমপান রোগ হওয়ার অনেক আগে শুরু হয়েছিল। তাই এখান থেকে সরাসরি রিলেটিভ রিস্ক (Relative Risk) এবং প্রকৃত রিস্ক ফ্যাক্টর বের করা যায়।
খ) কেস-কন্ট্রোল স্টাডি (Case-Control Study) — অতীতের দিকে ফিরে যাওয়া
ক্রস-সেকশনালের চেয়ে এটি শক্তিশালী কারণ এখানে আপনি শুরুতেই রোগীদের আলাদা করে ফেলেন।
• আপনি একদল রোগী (Cases) নেন [ধরে নেই, রোগীরা ফুসফুসের ক্যান্সার এ আক্রান্ত] এবং একদল সুস্থ মানুষ (Controls) নেন [যারা ফুসফুসের ক্যান্সার এ আক্রান্ত নন]।
• এরপর তাদের অতীতে (Past) গিয়ে খোঁজার চেষ্টা করেন যে তারা কোন কোন বিষয়ের [ধুমপান] সংস্পর্শে এসেছিলেন।
• যদিও এটিও পেছনের দিকে তাকায়, তবে যেহেতু এটি শুরুই হয় নিশ্চিত রোগী এবং সুস্থ মানুষ নিয়ে, তাই এটি এক্সপোজার এবং রোগের মধ্যকার সম্পর্ককে ক্রস-সেকশনালের চেয়ে অনেক নিখুঁতভাবে মেলাতে পারে (এখানেও অডস রেশিও ব্যবহার করা হয়)।
স্টাডির ধরনঃ ক্রস-সেকশনাল
এক্সপোজার ও আউটকামের সময়ঃ একই সময়ে দুটোই দেখা হয়
আমরা যা পাইঃ শুধু সম্পর্ক (Association)
রিস্ক ফ্যাক্টর বলা যাবে?: না (Temporal sequence বোঝা যায় না)
স্টাডির ধরনঃ কেস-কন্ট্রোল
এক্সপোজার ও আউটকামের সময়ঃ আউটকাম দেখে অতীতে এক্সপোজার খোঁজা হয়
আমরা যা পাইঃ অডস রেশিও (Odds Ratio)
রিস্ক ফ্যাক্টর বলা যাবে?: হ্যাঁ (কিছুটা নির্ভরযোগ্য ধারণা দেয়)
স্টাডির ধরনঃ কোহোর্ট
এক্সপোজার ও আউটকামের সময়ঃ এক্সপোজার দেখে ভবিষ্যতে আউটকাম খোঁজা হয়
আমরা যা পাইঃ রিলেটিভ রিস্ক (Relative Risk)
রিস্ক ফ্যাক্টর বলা যাবে?: হ্যাঁ (নিশ্চিতভাবে বলা যায়)
তাই সংক্ষেপে বলতে গেলে, ক্রস-সেকশনাল স্টাডিতে পাওয়া অডস রেশিও কেবল আপনাকে একটা ক্লু বা সূত্র দেয় যে, "এই দুটোর মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকতে পারে"। কিন্তু সেই সম্পর্কটা আসলেই একটা রিস্ক ফ্যাক্টর কি না, তা প্রমাণ করার জন্য আপনাকে কেস-কন্ট্রোল বা কোহোর্ট স্টাডির সাহায্য নিতেই হবে।
